ইন্টারনেট এবং তার প্রভাব

মানব সভ্যতার উপর ইন্টারনেটের প্রভাব যে ক্রমশ আরো বিশাল হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আস্তে আস্তে আমরা ক্রমশ ইন্টারনেটের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছি। আগামী দশ থেকে কুড়ি বছরের ভিতরে আরো যে কি কি পরিবর্তন হতে পারে তা ভাবলেও অবাক হতে হয়। আজ থেকে মাত্র পঁচিশ/ত্রিশ বছর আগেই অধিকাংশ বাড়িতে কোন টেলিফোন বা মোবাইল ফোন ছিল না। কেবল টিভি ছিল মাত্র। কম্পিউটার ছিল না এবং ছিল না ইন্টারনেট। ভাবতে অবাক লাগে যে মাত্র পঁচিশ/ত্রিশ বছরের ভিতরেই এত পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব হল। হয়তো একেই বলে বিজ্ঞানের অবদান। ইতমধ্যে মানব সভ্যতার উপর ইন্টারনেটের একটা বিরাট প্রভাব পড়েছে। এই প্রভাব অন্য সমস্ত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে ছাপিয়ে গেছে বললে ভুল বলা হবে না।

ইন্টারনেট প্রচলিত হবার ফলে সব থেকে সুবিধা হয়েছে এই যে একে ব্যবহার করে বহু দূরে বসবাসকারী মানুষও একসাথে কাজ করতে পারেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারেন, কথা বলা ও একই সাথে তাকে দেখতেও পারেন। এর ফলে বিভিন্ন গবেষনার উন্নতি আগের থেকে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন হয়েছে। ইন্টারনেট এটাও প্রমান করেছে যে মানুষ যে শুধু নিজের স্বার্থের জন্য কাজ করে এমন নয়। কারন ইন্টারনেটে বহু বিষয় ফ্রীতে পাওয়া যায়। রয়েছে যে কোন বিষয়ের উপর টিউটরিয়াল। এই তো বছর দশেক পরে আমার মনে হয় এসটিডি আইএসডি ফোন কলের আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না। এখনি আমাদের দেশ থেকে টিএন্ডটি ফোন বিলুপ্ত প্রায়। সমস্ত ফোনই হবে ইন্টারনেট মারফত। স্যাটেলাইট টেলিভিশনেরও আর কোনো দরকার হবে না। কারন ইন্টারনেটেই কয়েক লক্ষ টিভি চ্যানেল আর রেডিও দেখা আর শোনা যায়। অফিসে রোজ না গিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করার প্রবনতা বাড়বে। এবং সেটা কিন্তু এখন ফ্রিল্যান্সিং নামে আবির্ভূত হয়েছে। তাতে সময় ও বাঁচবে। সাধারন ব্যবহারের বেশিরভাগ সফটওয়্যার এবং অপারেটিং সিস্টেম হবে ওপেন সোর্স। ইতমধ্যে লিনাক্স বেজড্‌ অপারেটিং সিষ্টেম এখনি অনলাইন থেকে নামিয়ে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চালানো সহ সকল কাজ করা যাচ্ছে।

হাতে লেখার কাজ কমে আসছে অফিস আদালত পাড়ায়। সমস্ত অফিসেই বাংলা আর ইংরাজী কম্পিউটারেই টাইপ করা হয়। বেশীরভাগ গল্প ও উপন্যাস লেখক কম্পিউটারেই সরাসরি টাইপ করবেন, অনেকে এখন করছেন বলেই আমার বিশ্বাস। বইয়ের বদলে ছোট ছোট ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হয়েগেছে আধুনিক ডিজিটাল ক্লাসের নামে। এর ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে এবং তাতে পরিবেশ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। কিন্তু ইলেকট্রনিক বর্জের পরিমান বাড়বে। শহর থেকে দূরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যদি কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ানো যায় তবে গ্রাম এবং শহরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মানের পার্থক্য অনেক কমবে। আর সবথেকে বড়কথা সবদিক থেকেই আমারা ইন্টারনেটের উপর এত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি যে এটা সাধারন মানুষের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে আজ কাল।

শামীম হোসেন রনি

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে তথ্য ও প্রযুক্তিতে ব্যচেলর করেছেন সিডনি, অষ্ট্রেলিয়া থেকে। তিনি একজন উদ্যোগতা। তার প্রতিষ্ঠানের নাম, এসআরএস টেকনোলজি এন্ড সফটওয়্যার। এছাড়াও তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, অনলাইন ব্লগার ও কলাম লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *