ফুটবলের যত বাবা-ছেলের জুটি

ক্রোয়েশিয়ার নিকো ক্র্যাঙ্কার ও জ্লাতকো ক্র্যাঙ্কার জুটি (ক্রোয়েশিয়া)

নিনো ক্র্যাঙ্কার যখন ডায়নামো জাগরেবের যুবদলে যোগ দেন, তখন তার খেলোয়াড়ি প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না। বাবার মতোই খেলা পেয়েছেন বলে ভেবেছিল সবাই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিষেক হয়ে ১৭ বছর বয়সে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড লাভ করেন নিনো। পুরো যেন বাবা জ্লাতকো ক্র্যাঙ্কারের প্রতিচ্ছবি। বাবা ছিলেন ডায়নামো জাগরেব ইতিহাসের সেরা একাদশের একজন। ১০ বছর থেকে শুরু করে ২৭ বছর পর্যন্ত টানা খেলে গেছেন ডায়নামো জাগরেবের হয়ে। তবে দুই মেয়াদে ডায়নামো জাগরেবের কোচ হলেও ছেলেকে নিজের অধীনে পাননি জ্লাতকো। তবে ২০০৪ সালে যখন ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব পান, এর পরের ম্যাচেই দলে ডাকেন নিজের ছেলেকে। তা নিয়েও মিডিয়াতে কম কথা হয়নি। যদিও নিনো নিজের নামেই বড় হয়েছেন। বাবার অধীনে ২০০৬ বিশ্বকাপ খেলেন নিনো। বাবা চলে যাওয়ার পরেও ক্রোয়েশিয়ার হয়ে খেলেছেন নিনো। ৮১ ম্যাচে ১৬ গোল তাঁর সুন্দর ক্যারিয়ারের সাক্ষী।

ইয়োহান ক্রুইফ ও জর্দি ক্রুইফ (বার্সেলোনা)

বাবা বড় খেলোয়াড় হওয়া মানেই বাড়তি চাপ। সব সময় মাথার ওপর আলাদা সে চাপে ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক। তেমনটাই ঘটেছিল ইয়োহান ক্রুইফের ছেলে জর্দি ক্রুইফের সঙ্গে। পেশাদার ফুটবলে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে চাপটা কাল হয়ে উঠেছে জর্দির। বাবার কোচিংয়ের সুবাদে সুযোগ পেয়েছেন আয়াক্স ও বার্সেলোনার মতো দুটি দলের যুবদলে খেলার। ১৯৯৪ সালে যখন বার্সায় জর্দির অভিষেক হয়, তখনো বার্সার ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ইয়োহান। বাবার অধীনে দুই বছরের বেশি সময় খেলেছেন জর্দি। ১৯৯৬ সালে ইয়োহান ক্রুইফকে বার্সেলোনা ছেড়ে গেলে জর্দিকেও বিক্রি করে দেওয়া হয়। বার্সা-ইউনাইটেডের মতো দলে খেললেও সাফল্য পাননি জর্দি।

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ও ড্যারেন ফার্গুসন (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

চার দশকের বেশি সময় কোচিং করিয়েছেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। এই সময়ে কতশত তরুণ তারকাকে নিজ হাতে গড়েছেন, তার ইয়াত্তা নেই। এসব তরুণের মধ্যে তাঁর ছেলে ড্যারেনও ছিল। স্যার অ্যালেক্স যখন ইউনাইটেডের দায়িত্ব পান ১৯৮৬ সালে, তখন ড্যারেনের বয়স মাত্র ১৪। তখনই ইউনাইটেড যুবদলে জায়গা হয় তাঁর। ১৯৯০ সালে ১৮ বছর বয়সে রেড ডেভিলদের জার্সিতে অভিষেক হয় ড্যারেনের। কিন্তু ড্যারেনের পথচলা খুব একটা সুখকর হয়নি। তাঁর সময়েই ‘ক্লাস অব নাইনটি টু’ বের হলেও তেমন প্রতিভাবান ছিলেন না ড্যারেন। চার মৌসুম পর তাই তাঁকে বিক্রি করে দেন স্যার অ্যালেক্স। ছোটখাটো দলে খেলেই ক্যারিয়ার গড়েছেন ড্যারেন ফার্গুসন।

সিজার মালদিনি-পাওলো মালদিনি (এসি মিলান, ইতালি)

এই জুটি ক্রুইফ জুটির উল্টো। বাবা ক্রুইফের মতো না হলেও বড়মাপের খেলোয়াড় ছিলেন সিজার মালদিনি। অন্তত এসি মিলান ইতিহাসে। ১২ বছরের মিলান ক্যারিয়ারে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছেন, খেলেছেন ৩৪৭ ম্যাচ। পাওলোকে সবাই ভেবে নিয়েছিল বাবা মালদিনির উত্তরসূরি হিসেবে। কিন্তু খেলায় বাবা সিজারের নামকে ছাড়িয়ে গেছেন পাওলো। বাবাকে যখন কোচ হিসেবে পেয়েছেন, তত দিনে দেশের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন পাওলো। কারও প্রশ্ন তোলার সুযোগ হয়নি মালদিনিদের নিয়ে। মালদিনি বাবাকে প্রথম কোচ হিসেবে পান অনূর্ধ্ব-২১ দলে কোচ হিসেবে। বাবার অধীনে থাকার সময়ই প্রথম ইতালির জার্সিতে সুযোগ পান মালদিনি। অবশ্য ২০০১ সালে এসি মিলানের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হওয়ার সুবাদে আবারও এক হন বাবা-ছেলে।

জিনেদিন জিদান-এনজো ফার্নান্দেজ (রিয়াল মাদ্রিদ)

তালিকার এই নামটিও জিদানের। জিদানের চার সন্তানের চারজনই পা রেখেছেন ফুটবল জগতে। কিন্তু এর মধ্যে এখনো বড় দুজন পেশাদার ফুটবলে পা দিয়েছেন। এনজো ফার্নান্দেজের অভিষেকটাও হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। এনজোর প্রতিভা নিয়ে কখনো কারও প্রশ্ন ছিল না। নিজ যোগ্যতাতেই সব ধাপ পার হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ মূল দলে সুযোগ পেয়েছিলেন এনজো। যদিও জিদানের প্রথম মেয়াদের মাঝপথেই এনজো পাট চুকিয়েছেন নিজের রিয়াল ক্যারিয়ারের।

শামীম হোসেন রনি

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে তথ্য ও প্রযুক্তিতে ব্যচেলর করেছেন সিডনি, অষ্ট্রেলিয়া থেকে। তিনি একজন উদ্যোগতা। তার প্রতিষ্ঠানের নাম, এসআরএস টেকনোলজি এন্ড সফটওয়্যার। এছাড়াও তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, অনলাইন ব্লগার ও কলাম লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *