বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ২০১৯ সাল
বাংলাদেশের ইতিহাসে, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অনেক শক্ত অবস্থানে থেকে ইংরেজি ২০১৯ সালকে বরন করে নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের, যা এইচএসবিসি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৩০ এ ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন পৃথিবীতে ৪২তম আর ক্রয় ক্ষমতার বিচারে পৃথিবীতে ৩১তম। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উপমহাদেশের মাঝে দ্বিতীয় বৃহত্তম। অর্থাৎ আমাদের টাকা ২৭ বছর ধরে লুট করা পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে। আইএমএফ’র মতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ১৭৫৪ ডলার। সুতরাং এ কথা খুব সহজেই বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ সঠিক পথেই আছে। কিন্তু, অর্থনীতিতে উন্নতির রাস্তাটি অনেকটা আমাদের দেশের রাস্তার মতোই। সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। প্রতিটা মোড়ে মোড়ে অপেক্ষা করে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। আমার মতে, আসলে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন খুবই নাজুক সময় পার করছে। আমাদের উন্নতির শুরুটা আমরা ঠিক মতোই করেছি। আমাদের শুরুটাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালনার জন্যই ২০১৯ সাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই বছরে আমাদের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রথম সিদ্ধান্ত হবে, বাংলাদেশ কিভাবে তার আয় বাড়াবে? এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধান দুটি উৎস হলো— তৈরি পোশাক রপ্তানি আর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। আরও কিছু সেক্টর থেকে আমরা আয় করি। যেমন: সিরামিক, চামড়া, চা ইত্যিাদি। আমাদের বর্তমান আয়ের এসব উৎসের উন্নয়ন সাধনের সাথে সাথে অবশ্যই নতুন কিছু ক্ষেত্র থেকে আয় বাড়াতে হবে। এই ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং একটা খুবই ভালো ক্ষেত্র হতে পারে। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের (ওআইআই) মতে, বাংলাদেশ ১৬.৮% আউটসোর্সকারী সরবরাহ করে আউটসোর্স বাজারে। আমাদের তরুণরা প্রতিভাবান, মেধাবী ও পরিশ্রমী। তারা নতুন প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাবার মতো স্মার্ট এবং উদ্বাবনী মানসিকতা সম্পন্ন। ডিজিটাল এই যুগে শুধু ফিজিক্যাল পণ্যকে রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার মতো বিলাসিতা আমরা করতে পারি না। আমাদের ২০১৯ সালে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কিভাবে এই সংখ্যাটি ৩০% উন্নীত করতে পারব, ২০২১ এর মাঝে। এবং সেই সাথে আমাদের বুঝতে হবে যে, প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন ছাড়া এখন টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব না। আমাদের অবশ্যই প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগই আমাদের উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল পণ্য এবং সেবা রপ্তানির জন্য এই বছরে নেয়া পদক্ষেপই ঠিক করে দিবে আমরা এবং আমাদের অর্থনীতি ভবিষ্যতে কোথায় থাকবে। এ ছাড়া আমাদের ঝিমিয়ে পড়া কিন্তু সম্ভাবনাময় সেক্টরগুলো যেমন: পর্যটন, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাবার— এসবের জন্য আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের বিশাল সংখ্যার তরুণদের জনসম্পদে পরিণত করার ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। আমরা এতক্ষন শুধু কিছু গুরুত্বপূর্ন কিছু খাতের কথা উল্ল্যেখ করলাম যা থেকে সরকার অর্থ পাতে পারেন। কিন্তু আমাদের উন্নতি ততদিন পর্যন্ত হবে না যতদিন না আমাদের সরকার সেই আয়ের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন এবং তখনই কেবল আমাদের অর্থনীতি তথা উন্নয়নের সঠিক পথে থাকতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

